বক্সিং-জুডোর জোড়া ইতিহাসে গ্লাসগোয় চতুর্থ ভারত, কমনওয়েলথে নতুন যুগের ইঙ্গিত
বক্সিং-জুডোর জোড়া ইতিহাসে গ্লাসগোয় চতুর্থ ভারত, কমনওয়েলথে নতুন যুগের ইঙ্গিত
গ্লাসগো, ২ অগস্ট: স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শেষ হল ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস, আর এই আসরেই নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিল ভারত। মোট ৩৯টি পদক — ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ — নিয়ে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে থামল ভারতীয় দল।
সংখ্যার হিসেবের বাইরেও এই সাফল্যের একটা বড় তাৎপর্য আছে — বক্সিং-শুটিংয়ের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে জুডো, দশপ্রতিযোগিতা (ডেকাথলন) আর প্যারা-অ্যাথলেটিক্সের মতো নতুন ক্ষেত্রেও ভারতের নাম এখন পদক তালিকায় উজ্জ্বল।
বক্সিং রিংয়ে সোনার বৃষ্টি
এবারের আসরে ভারতের সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বক্সিং থেকে। ১০টি পদক নিয়ে — যার মধ্যে ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো — বক্সাররা গড়েছেন কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের সেরা বক্সিং পারফরম্যান্স, যা এক আসরে যে কোনও দেশের সর্বোচ্চ সোনার সংখ্যাও বটে। সাক্ষী চৌধুরী, প্রীতি পাওয়ার, জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া, প্রিয়া ঘাংহাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাংহালরা সোনা জিতেছেন নিজ নিজ বিভাগে, আর অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোহাঁই মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে জিতেছেন রুপো। রিংয়ে এই আধিপত্য প্রমাণ করে দিল, তৃণমূল স্তরের প্রশিক্ষণ আর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় বিনিয়োগের ফল এখন হাতেনাতে মিলছে।
জুডোয় প্রথমবার সোনা, নতুন ইতিহাস
কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম জুডোয় সোনা জিতল ভারত। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে অস্মিতা দে আর পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে হর্ষ সিং লিখলেন নতুন ইতিহাস। প্রমাণ হয়ে গেল, চিরাচরিত শক্তির জায়গার বাইরেও মার্শাল আর্টে সমান দক্ষ ভারত। এই জোড়া সোনা ভারতের পদক তালিকায় বৈচিত্র্যের এক নতুন অধ্যায়ের
সূচনা করল।
অ্যাথলেটিক্সে বিস্তৃত দিগন্ত
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডেও এবার নজর কেড়েছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। গুলবীর সিং একই আসরে ১০,০০০ মিটারে রুপো ও ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে এই দুই ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় হয়ে উঠলেন।
ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ জিতে তেজস্বিন শঙ্কর গড়লেন নিজের মতো এক নজির। বহু দশক ধরে যে বিভাগে অন্য দেশগুলোর আধিপত্য ছিল, সেখানে ভারতের এই এগিয়ে চলা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
Nrws
ভারোত্তোলনে অব্যাহত মীরাবাইয়ের রাজত্ব
ভারতের চিরচেনা শক্তির জায়গা ভারোত্তোলনে ফের নিজের জাত চেনালেন মীরাবাই চানু। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ সোনা জিতে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তিনি জাতীয় আইকন। তাঁর ধারাবাহিকতা আর আধিপত্য নতুন প্রজন্মের ভারোত্তোলকদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম।
প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে নতুন গৌরব
প্যারা অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণ এবার ভারতের জন্য বাড়তি গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে। মহিলাদের শট পাটে (F57 বিভাগ) সোনা জিতে শর্মিলা ধনকর গড়লেন ভারতের প্রথম প্যারা-অ্যাথলেটিক্স সোনার ইতিহাস, আর তাঁর সঙ্গীরা যোগ করেছেন একাধিক রুপো ও ব্রোঞ্জ। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ২০ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়ে ভারত এবার এই বিভাগ থেকেই এনেছে সবচেয়ে বেশি পদক — এই জয়গুলো শুধু পদক তালিকা বাড়ায়নি, অন্তর্ভুক্তি আর দৃঢ় সংকল্পের শক্তিকেও তুলে ধরেছে।
সাইক্লিংয়ে গতি ও নিয়ন্ত্রণের ছাপ
সাইক্লিং ট্র্যাকেও প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন ভারতীয়রা, পোডিয়াম ফিনিশ এনে দেখিয়ে দিয়েছেন হাই-স্পিড বিভাগেও ভারতের সামর্থ্য কম নয়।
চতুর্থ স্থানের তাৎপর্য
শুধু একটা সংখ্যা নয়, ভারতের এই চতুর্থ স্থান আসলে অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে —
ভারোত্তোলন আর শুটিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে খেলাধুলোয় বৈচিত্র্যের বিস্তার
জুডো, ডেকাথলন আর প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে একের পর এক ঐতিহাসিক প্রথম
বক্সিংয়ে অভূতপূর্ব সাফল্য, যা এবারের আসরে ভারতের সবচেয়ে বড় পদক জোগানদার
২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস, একাধিক বিভাগে এখন সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে ভারত









Comments
Post a Comment